পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতিকে প্রাণনাশের হুমকি, প্রতিবাদে মানবন্ধন


ডেস্ক রিপোর্টঃ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কতিপয় দুর্বত্তরা পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার পূর্বধলা সংবাদদাতা ও পূর্বকন্ঠ ডট কম অনলাইন প্রকাশনার প্রকাশক-সম্পাদক শফিকুল আলম শাহীনের বাসভবনে হামলা ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে। গত ২২ জুলাই শনিবার রাতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ওই দুর্বত্তদের বিরুদ্ধে রবিবার (23.07.17) রাতে পূর্বধলা থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেছেন।

 
এ দিকে ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ীদের বিচারের দাবীতে সোমবার (24.07.17) বিকেলে পূর্বধলা প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছে পূর্বধলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। বর্তমানে তার বাসায় নিরাপত্তা রক্ষার্থে পুলিশি টহল রয়েছে।
সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীন জানান, গত শনিবার সকালে নেত্রকোনার পূর্বধলা ডিগ্রী কলেজে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন খোকন ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মন্ডল মনির নেতৃত্বে ১০/১৫জন বহিরাগত কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীদের ওপর হামলা চালালে সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীন উক্ত সংবাদটি “পূর্বধলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত-৫” এই শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন প্রকাশনায় ও “পূর্বধলা ডিগ্রী কলেজে ছাত্রলীগের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত-৫” এই শিরোনামে আরেকটি সংবাদ পূর্বকন্ঠ ডট কম অনলাইন প্রকাশনায় প্রকাশের পর ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দশটার দিকে সাংবাদিকের উপজেলা সদরের স্টেশন রোডস্থ বাসায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মন্ডল মনি এসে সাংবাদিক শাহীনকে ঘরের দরজা খোলার জন্য ডাক দেয়। সে ঘরের দরজা খোলার সাথে সাথে নজরুল ইসলাম মন্ডল মনির সাথে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন খোকন, ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ান মাসুদ, তরিকুল ইসলাম, মনোয়ার হোসেন, শেখ মাসুদ রানা, তাহের আহমেদ, মওদুদ আহমেদ সোহাগ ও শিমুলসহ ১০/১৫ জন লোক তার ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় সাংবাদিকের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি নজরুল ইসলাম মন্ডল মনি জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে একযোগে সকলেই তাকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে।  এ সময় তারা উক্ত সংবাদটি ওয়েব সাইট থেকে মুছে ফেলার জন্য তাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এসময় সাংবাদিকের স্ত্রী মৌদাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান আরা ও তার মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী নওরিন আলম কান্নাকাটি করতে থাকলে  দুর্বত্তরা সাংবাদিককে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে চলে যায়।
এ ব্যাপারে পূর্বধলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) অভিরঞ্জন দেব জানান, এ ঘটনায় সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহীন গত রবিবার রাতে থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করেছেন। সাংবাদিকের নিরাপত্তা রক্ষায় তার বাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।